চলতি মাসের শেষে ফের ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সভা

জাতীয় প্রচ্ছদ
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রাক প্রস্তুতিমূলক সভাও সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার আগে চূড়ান্তভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চলতি মাসের শেষে ফের বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২০ অক্টোবর সভায় নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পেলেও তফসিলের আগের এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাজেটকে গুরুত্ব দেবে এই সাংবিধানিক সংস্থাটি।

ইসি সূত্র জানায়, গত ২০ অক্টোবর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আমাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ ও ভোটাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে তফসিলকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে; যেখানে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও এবার বাজেটকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

গত ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভা শেষে ২১টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নিম্নরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি—

১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মতামত, সুপারিশ ও প্রস্তাবসমূহ লিখিতভাবে কমিশনকে প্রদান করতে হবে।

২. নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে বাহিনীগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা যথা সময়ে প্রেরণ করতে হবে।

৩. থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট করে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান করতে হবে। রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে বিভক্ত করে পরিকল্পনা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

৪. জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোট করতে গেলে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। বিষয়টি অ্যাডজাস্ট করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৫. গোয়েন্দা তথ্যসহ নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করতে হবে এবং প্রাপ্ত তথ্য কমিশনকে নিয়মিতভাবে অবগত করতে হবে। প্রয়োজনে বাহিনীগুলোর মধ্যেও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করা যাবে।

৬. নির্বাচন পূর্ব সময়ে কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে, এজন্য বাহিনীগুলোকে আগাম সর্তকতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৭. যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৮. নির্বাচনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার সুবিধার্থে সকলকে এখন থেকেই কাজ করতে হবে।

৯. যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যে বাহিনী ঘটনাস্থলের কাছে থাকবেন, তাকেই সর্বপ্রথম রেসপন্স করতে হবে।

১০. সক্ষমতা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, কন্টিনজেন্সি ম্যানেজমেন্ট, সামাজিক মাধ্যম ও নির্বাচনে এআইয়ের ব্যবহার ইত্যাদির বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

১১. নারীদের প্রতি সাইবার বুলিং প্রতিরোধ, সংখ্যালঘু ও জঙ্গীকার্ড ইস্যুর মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

১২. মানুষের ভয়েস ক্লোন করে বা চরিত্র হননের ঘটনা ঘটতে পারে, এটি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।

১৩. খারাপ তথ্য প্রতিরোধে নিয়মিত ও দ্রুততার সঙ্গে ভালো তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

১৪. অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেফতার, তফসিল ঘোষণার পর থেকে চেক পয়েন্ট বসিয়ে নিয়মিত তল্লাশী করা, প্রয়োজনে বর্ডার ও সি-রুট সিল করা, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া ইত্যাদি বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

১৫. নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে, এসব প্রতিরোধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

১৬. তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিদেশি নাগরিকদের তালিকা করে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।

১৭. কালো টাকার ব্যবহার রোধে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।

১৮. পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে Out of Country Voting (OCV) নিয়েও সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে, যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আগত ও সংরক্ষিত পোস্টাল ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

১৯. বাহিনীর যেসব সদস্য দীর্ঘদিন একই স্থানে পদায়ন আছেন, নির্বাচনের পূর্বে তাদের বদলির ব্যবস্থা নিতে হবে।

২০. অধিক ঝুকিঁপূর্ণ, ঝুকিঁপূর্ণ ও সাধারণ ভোটকেন্দ্র শনাক্ত করে তালিকা যথাসময়ে কমিশনে দাখিল করতে হবে।

২১. আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন অফিস ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

ওই বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি লেফট্যানেন্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বিমানবাহিনীর প্রধানের প্রতিনিধি এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দিন আসাদ, নৌবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি রিয়ার অ্যাডমিরাল মীর এরশাদ আলী, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, এনএসআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ, ডিজিএফআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, আনসার ভিডিপি অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা, র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, এসবি’র অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন ও অর্থ) জি এম আজিজুর রহমান এবং সিআইডি’র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. ছিবগাত উল্ল্যাহ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *