ঈশ্বরগঞ্জে এনসিপি নেতা মোজাম্মেলকে ‘হাদীর মতো’ হত্যার হুমকি

সারাদেশ
Spread the love

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মোজাম্মেল হকের ওপর হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে প্রশাসন ও স্থানীয় সুশীল সমাজের মধ্যস্থতায় সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি এখন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও এনসিপি নেতার পাল্টাপাল্টি মামলায় রূপ নিয়েছে।

এরই মধ্যে মামলা প্রত্যাহার করতে চাপ সৃষ্টি করে এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হককে ‘শহীদ হাদীর মতো’ হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঈশ্বরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে হত্যার হুমকি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক জানান, গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি অজ্ঞাতনামা আইডি থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়, তিনি যদি দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না করেন, তাহলে তার পরিণতি ‘শহীদ হাদী’র মতো হবে।

এই হুমকির প্রেক্ষিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে মোজাম্মেল হক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন—“হাদীর মতো পরিণতি হবে বলে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে যদি আমি মামলা প্রত্যাহার না করি। তাদের উদ্দেশ্যে বলি—৫ আগস্টের পরের জীবন বোনাস হিসাবেই ধরে নিয়েছি।”

স্ট্যাটাসটি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এতে স্থানীয় ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। তিন মাসের বিরোধ, শেষে আদালতপাড়া পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ নভেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন মোজাম্মেল হক। ওই ঘটনার পর থেকে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন বাদী হয়ে এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হককে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন’-এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে গত ১৫ জানুয়ারি মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি গার্ড শাকিলকে প্রধান আসামি করে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।

এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, “ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের দখলে রয়েছে। রোগীদের দালালের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো, সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি এবং সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি।”

তিনি আরও বলেন “এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় আমার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। হামলায় আমার বাম হাত ভেঙে যায়। অস্ত্রোপচার করে হাতে রড বসানো হয়েছে, যা এখনো প্লাস্টার করা। অথচ আহত অবস্থাতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এখন আবার হত্যার হুমকি দিয়ে আমাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।”

ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলাগুলো দ্রুত বিচার আইনের আওতায় তদন্তাধীন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া হত্যার হুমকির বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, হামলায় গুরুতর আহত মোজাম্মেল হকের চিকিৎসা চলমান থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ স্থানীয় নাগরিক সমাজ। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *