নিজস্ব প্রতিবেদক :
হাতেম আলী খান ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য। তিনি ১৯০৪ সালের ২৪ নভেম্বর টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা নায়েব আলী খান ছিলেন স্থানীয় জমিদার। হাতেম আলী খান ১৯২০ সালে হেমনগর শশীমুখী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন এবং পরের বছর কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হন। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী সূর্য সেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় হয়। হাতেম আলী খান ১৯২৪ সালে রিপন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। ১৯২৬ সালে বিএ এবং ১৯২৮ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
হাতেম আলী খান বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করেছেন। তিনি জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন। কলকাতা থেকে ‘সর্বহারা’ নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ করেন তিনি। এরপর তিনি আরও দুটি সাময়িকী প্রকাশ করেন, যেগুলোর নাম ছিলো ‘চাষী-মজুর’ ও ‘দিন-মজুর’। হাতেম আলী খান তার সংগ্রামী জীবনে একাধিকবার কারানির্যাতন ভোগ করেছেন। ১৯৩৩ সালে তিনি কলকাতা থেকে তার গ্রামে ফিরে আসেন। ১৯৪৬ সালে চলমান তেভাগা আন্দোলনে তিনি তার গ্রামে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি নিজ জেলা টাঙ্গাইল ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর, রায়পুর ও মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের তেভাগা সংগঠনে কাজ করেন নিষ্ঠার সঙ্গে।
একইসঙ্গে তিনটি (বলরামপুর, নলিন ও ধূবলিয়া) হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৪২)। ১৯৫০ সালের দাঙ্গায় হাজার হাজার মুসলিম আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করে। হাতেম আলী খান তাদের জন্য কাজ শুরু করেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৬ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কৃষক সমিতির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
হাতেম আলী খান ১৯৭৭ সালের ২৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।