ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ঘিরে বিএনপি ঘোষিত সম্ভাব্য ২৩৭ আসনে প্রার্থী তালিকা ইতিপূর্বে ঘোষণা করেছে। প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রয়েছে ৬৩ আসন। তবে প্রার্থী ঘোষণা বাকী বা স্থগিত থাকা আসনে জোট শরীক বা বিএনপির ত্যাগী অনেক নেতাকে প্রার্থী করা হতে পারে। এদের মধ্যে ময়মনসিংহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনে প্রার্থী তালিকায় চমক থাকতে পারে বলে জেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলার দুটি আসন ময়মনসিংহ-৪ এবং ময়মনসিংহ-১০ আসনে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ইতিপূর্বে বিএনপি ঘোষিত ২৩৭ প্রার্থী তালিকায় ময়মনসিং-১০ (গফরগাঁও) আসনটি খালি ছিল। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তখন বলা হয়েছিল জোটের শরিকদের জন্য ফাঁকা রাখা রয়েছে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসন। তবে কোন্দলে জর্জরিত এ আসনে বিএনপি যোগ্য প্রার্থী খুঁজছে বলে জানা গেছে। অনেকে বলেছেন জোটের শরিকদের জন্য আসনটি ছেড়েও দিতে পারে বিএনপি।
অপরদিকে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দের নাম মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় থাকলেও পরে সেটি স্থগিত রাখা হয়। ফলে ময়মনসিংহের এ দুটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ দুটি আসনে কে পাচ্ছেন ধানের শীষ প্রতীক-এ নিয়ে দলের নেতা কর্মী ও সমর্থক ছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে বিশ্লেষণ আলোচনা। এ রকম পরিস্থিতিতে এ দুটি আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছবিসহ ব্যানার, বিলবোর্ড, প্যানা আর পোস্টারে ছেয়ে গেছে এ দুটি নির্বাচনী এলাকা। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার জানান, বিএনপির হাই কমান্ড আরও যাচাই বাছাই করে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য এ দুটি আসনে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।
জানা গেছে, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ, ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ, মহানগর বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাত আলী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান খান এবং ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন। কোন্দলে জর্জরিত এ আসনে বিএনপি যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেবে বলে জানিয়েছে দলের নেতৃবৃন্দ। এক্ষেত্রে নাটকীয় কিছু ঘটতে পারে বলে কর্মীদের ধারণা।
জানা গেছে, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ এ দুজনের একজন পেতে পারেন ধানের শীষ। কর্মীদের মতে উন্নয়ন বঞ্চিত ময়মনসিংহ সদরের উন্নয়নে ক্লিন ইমেজের জাদরেল ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। কমিটি ও পদ বাণিজ্যসহ দখল বাণিজ্যের অভিযোগ নেই এমন যোগ্য প্রার্থীর মনোনয়ন চান এ আসনের বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। নিজেদের আধিপত্যের প্রশ্নে অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ঠেকাও মনোভাবাপন্ন বিএনপির বিভাগীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ তলে তলে জোটবদ্ধ হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
অ্যাডভোকেট মির্জা আল মাহমুদ বিগত ২০১৫-১৬ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সদস্যপদে নির্বাচিত হন। এছাড়াও বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে ময়মনসিংহ জেলার বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মামলা মোকদ্দমায় আইনজীবী হিসেবে আইনগত সহায়তা দিয়ে আসছেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কাজ করছেন।
আইন পেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার, আইনের শাসন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্দোলন অংশ হিসেবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় কারাবরণও করেছেন। তিনি বাংলাদেশের জনগণের পরম অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রে জনগণের মালিকানা ও ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চলেছেন।
অপরদিকে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন- উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ এবি সিদ্দিকুর রহমান, প্রয়াত সাবেক এমপি ফজলুর রহমান সুলতানের পুত্র গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, পাগলা থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম- আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আল ফাত্তাহ খান ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম।