নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের রিহ্যাবিলিটেশন কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ বাংলাদেশের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান, নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা তদারকি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদানে দায়িত্ব পালন করছেন। ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ “Outstanding Contribution to Orthopedic Surgery and Public Healthcare” সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যখাতের নেতৃত্ব, উদ্ভাবন ও মানবিক অবদানকে স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত Global Health Summit 2026-এর আওতায় এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। দীর্ঘ দেড় দশকে ২,৫০০-এর বেশি সফল অস্ত্রোপচার বিনামূল্যে সম্পন্ন করা, জনস্বাস্থ্যসেবায় অবদান এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে এ সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রচারবিমুখ ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ পেশাজীবনে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে প্রায় আড়াই হাজার আহত ব্যক্তির অপারেশন সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে বিরতিহীন চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন ডা.শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ। তাই কাজের মূল্যায়ন স্বরুপ বর্তমানে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি সরকার গঠন করার পর পরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ও বিশিষ্ট্য অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতেই ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসেবা তদারকি এবং জরুরি চিকিৎসা সমন্বয়ের দায়িত্ব গুরুত্বসহকারে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন। এছাড়া তিনি চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তুলেছেন। পেশাগত জীবনে সততা, নিষ্ঠা ও রোগীবান্ধব আচরণের জন্য ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ সহকর্মী ও রোগীদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ’র জন্ম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলায়। ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। প্রয়াত স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক বাবার সরকারি চাকুরির সুবাদে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলে। এস এস সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। এমবিবিএস পাসের পর ২০০৩ সালে চিকিৎসক হিসেবে পেশাদার জীবন শুরু করেন।
২০০২ সাল থেকেই ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনীতিকে শুধু মিছিল-মিটিংয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের জন্য কাজ করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তিনি এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ফাউন্ডেশনটি বছরের পর বছর ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও জটিল অপারেশন সেবা দিয়ে আসছে। আহত নেতাকর্মীদের চিকিৎসার জন্য জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি গঠন করা হয়। ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এই সংগঠনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার আহত রোগীর অস্ত্রোপচার করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের রিহ্যাবিলিটেশন থেকে। যার সবই বিনা পারিশ্রমিকে। চিকিৎসক টিমে আরও রয়েছেন অধ্যাপক ডা. সিরাজুস সালেহীন, ড. পারভেজ রেজা কাকন, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির, ডা. এম. আর হাসান, ডা. সাজিদ, ডা. শাওন রহমান, ডা. রাকিবুজ্জামান, ডা. আয়াজ প্রমুখ। এ বিষয়ে ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ বলেন, প্রথম দিকে কলাবাগানের কাছে একটি হাসপাতালে অপারেশন করতাম। এটি ধানমন্ডি ৩২-এর কাছাকাছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও ছিল বেশি। ফলে সেখান থেকে সরে শ্যামলীতে যাই। বেশিরভাগ অপারেশন হতো সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। হাসপাতালের মালিক রফিক সাহেব আমাদের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তবে শর্ত ছিল—যখন অন্য রোগীর ভিড় থাকবে না তখনই অপারেশন করতে হবে। মানে আমরা হয় গভীর রাতে নয়তো খুব ভোরে অপারেশন করতাম। আমরা খুবই সাধারণভাবে হাসপাতালে ঢুকতাম। মোবাইল অন্য জায়গায় রেখে আসতাম। কাজ শেষে একেকজন একেকভাবে বের হয়ে যেতাম। আমাদের টিমের অনেকেই সরকারি চাকুরে। ফলে পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়লে মামলা, বিভাগীয় তদন্ত কিংবা শাস্তিমূলক পোস্টিং—যেকোনো কিছুই হতে পারত। তাই বেশ সতর্কতার সঙ্গে চলতে হতো।