ময়মনসিংহের ১১টি আসনে আটটিতে বিএনপি

সারাদেশ
Spread the love

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহের ১১টি আসনের মধ্যে আটটিতে বিএনপি এবং একটি করে আসনে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জয় পেয়েছে। অন্যদিকে একটি আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ (প্রিন্স) দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়জন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) : এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সৈয়দ এমরান সালেহ। এখানে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সালমান ওমর। প্রার্থী হওয়ায় দল তাঁকে বহিষ্কার করে। বেসরকারি ফলাফলে ১ লাখ ৭ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হন সালমান ওমর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩৬ ভোট। জীবনে প্রথম ভোটে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন সালমান ওমর।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) : এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৬৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধানের শীষের প্রার্থী উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৪ ভোট।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) : এ আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপি প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমানের। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ইকবাল হোসেইন ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আহাম্মদ তায়েবুর রহমান পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৩৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) : এখানে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের সঙ্গে মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসানের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯১ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) : এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৭৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) : এখানে পাঁচজন প্রার্থী অংশ নেন। জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর বাইরে দুই দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের মধ্যে ছিল জমজমাট ভোটের লড়াই। এখানে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির কামরুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৭৫ হাজার ৯৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আখতার সুলতানা। তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে ৫২ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন ৫১ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় ও ধানের শীষের প্রার্থী মো. আখতারুল আলম ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন। জীবনে প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়ে কামরুল হাসান এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) : এ আসনে ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এখানে বিএনপির প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান ধানের শীষে প্রতীকে ৯৮ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আছাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৮২ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) : এখানে চারজন প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ‍দুজন ছিলেন সাবেক এমপি। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ১ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত জোটের লেবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আওরঙ্গজেব বেলাল। তিনি পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৭৯১ ভোট। বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা নিয়ে সাবেক এমপি শাহ নূরুল কবীর পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭৩৪ ভোট এবং জাতীয় পার্টির তিনবারের এমপি ফখরুল ইমাম মাত্র ১ হাজার ৭১৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) : এ আসেন ছয়জন প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ইয়াসের খান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৮৮৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত জোটের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৮৯৮ ভোট। জীবনে প্রথম ভোটেই এমপি হলেন ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর বাবা ও চাচাও এ আসনে দীর্ঘদিন এমপি ছিলেন।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) : এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৩৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪২৪। দাঁড়িপাল্লা নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী মো. ইসমাঈল পেয়েছেন ৬৪ হাজার ১৬৯ ভোট। জীবনে প্রথমবার ভোটে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) : এ আসনে ৫ জন প্রার্থী ভোটে অংশ নেন। এর মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম ছিলেন বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। তিনি পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *