কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অধ্যাদেশ জারি

প্রচ্ছদ শিক্ষা
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ সরকার “কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬” এবং “পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬” জারি করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সকল মানুষকে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬
এই অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো সকলের জন্য কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা। এতে যৌন হয়রানির বিস্তৃত সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে—শারীরিক, মৌখিক, অ-মৌখিক, ডিজিটাল ও অনলাইন আচরণসহ সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপ অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি (ICC) গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। শাস্তির মধ্যে রয়েছে তিরস্কার থেকে শুরু করে পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার। অধ্যাদেশটি ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করবে এবং প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া, সংখ্যালঘু ও অসংগঠিত খাতে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬
এটি নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, পারিবারিক সহিংসতার দ্রুত বিচার এবং প্রতিকার ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। অধ্যাদেশে পারিবারিক সহিংসতার বিস্তৃত সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে—শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতন। ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—অংশীদারি বাসগৃহে বসবাস, আদালতের মাধ্যমে দ্রুত সুরক্ষা আদেশ, ক্ষতিপূরণ আদেশ ও ভরণপোষণ, শিশুর সাময়িক তত্ত্বাবধান এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন।

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে অধিকাংশ আবেদন ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের আদেশ লঙ্ঘনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, এই অধ্যাদেশগুলো কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *