নিজস্ব প্রতিবেদক :
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৪-এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষে উপজেলা, মহানগর পর্যায়ে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ১০ জুলাই সই করা এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ রবিবার (১৩ জুলাই) জারি করে।
২৪-এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনায় বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি পালন উপলক্ষে দেশব্যাপী জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে দেশব্যাপী মাধ্যমিক (স্কুল/সমপর্যায়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা) ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে (কলেজ/সমপর্যায়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা) ২৪ এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সৃজনশীল রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর প্রেক্ষিতে সারা দেশের মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়, ‘২৪ এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন’ প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু হতে হবে ২০২৪-এর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রিক।
উপজেলা বা থানা, জেলা ও বিভাগীয় কমিটি ‘২৪ এর রঙে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন’ প্রতিযোগিতার স্থান নির্ধারণ করবে। কোনও স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল ও বিতর্কিত স্থান গ্রাফিতি অঙ্কনের জন্য নির্ধারণ করা যাবে না।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠান কমিটি নির্ধারিত স্থান বা দেয়ালে নিজেদের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। গ্রাফিতি অঙ্কনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাত্র-ছাত্রীরা অথবা প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করবে। নিজস্ব আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এটি করতে হবে।
যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দেয়াল নেই সেসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা সংশ্লিষ্ট কমিটি নির্ধারিত দেয়ালে গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।
মাধ্যমিক পর্যায়ে (ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি বা কারিগরি ও মাদ্রাসার সমপর্যায়) এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে (১ হাজার ১০০-১ হাজার ২০০ শ্রেণি বা কারিগরি ও মাদ্রাসার সমপর্যায়) প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আলাদা আলাদা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
অন্য কোনও গ্রাফিতি বা সংবেদনশীল অঙ্কন মুছে গ্রাফিতি অঙ্কনের স্থান নির্ধারণ করা যাবে না। গ্রাফিতি অঙ্কনের স্থানটি নতুন ও যথোপযুক্ত হতে হবে। তবে পূর্বের গ্রাফিতি একান্তই মুছে ফেলার প্রয়োজন হলে তা ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ করে মুছে ফেলতে হবে।
প্রতিযোগীরা সমস্ত উপকরণসহ গ্রাফিতি অঙ্কনের নির্ধারিত স্থানে সমবেত হয়ে গ্রাফিতি অঙ্কন কার্যক্রমে অংশ নেবে। অঙ্কন শেষে উপজেলা বা থানা কমিটি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবে। মানসম্মত নির্বাচিত গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কনের স্থিরচিত্র এবং ভিডিও ধারণ করে সংরক্ষণ করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম স্থান, দ্বিতীয় স্থান ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা পৃথকভাবে জেলা কমিটির কাছে পাঠাবে।
একইভাবে জেলা কমিটি উপজেলা পর্যায়ে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর অঙ্কন শেষে জেলা কমিটি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা আলাদাভাবে বিভাগীয় কমিটির কাছে পাঠাবে।
উপজেলা পর্যায়ে মাধ্যমিকের ষষ্ট থেকে দশম শ্রেণি, কারিগরি ও সমপর্যায়ের এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রথম পুরস্কার ৭ হাজার , দ্বিতীয় পুরস্কার ৫ হাজার, তৃতীয় পুরস্কার ৩ হাজার টাকা পাবে। জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রথম পুরস্কার ১০ হাজার, দ্বিতীয় পুরস্কার ৭ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ৫ হাজার টাকা করে পাবে।
অনুষ্ঠান আয়োজন বাবদ উপজেলা পর্যায়ে ৩০ হাজার, জেলা পর্যায়ে ৫০ হাজার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।