নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিকদার গ্রুপে কর্তৃক প্রকাশিত ইংরেজী দৈনিক বাংলাদেশ পোস্টে শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ মানবিক সঙ্কট। বেতন বঞ্চনা, চাকরিচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার ঘূর্ণাবর্তে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন গ্রুপের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিক। বিশেষ করে ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকার কর্মীরা মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও কর্মচারীরা বলেন, “আমরা কোনো অনুদান চাই না, চাই আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য বেতন। এটা দয়া নয় আমাদের রক্ত-ঘামে অর্জিত অধিকার।”
দুদকের অর্থপাচার ও দুর্নীতির মামলায় গ্রুপের চেয়ারম্যান রিক হক সিকদার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার-এর বিরুদ্ধে তদন্ত চলার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে অস্থিরতা বাড়তে থাকে। কর্মচারীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বেতন-ভাতা আটকে রাখা হয়েছে। অনেকের বকেয়া টাকার পরিমাণ কয়েক লক্ষাধিক। সন্তানদের পড়াশোনা, ভাড়া ও চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে তারা এখন নিদারুণ সংকটে।
সাংবাদিক, কর্মচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এতদিন সম্মানের খাতিরে চুপ ছিলাম, কিন্তু এখন নীরব থাকা অসম্ভব।”বাংলাদেশ পোস্ট পত্রিকার সাংবাদিক ও কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও মালিকপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক একদিনের নোটিশে বেশ কয়েকজন কর্মীকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
সাংবাদিকরা বলেন, “আমাদের প্রাপ্য না দিয়ে বরং ভয় দেখানো হচ্ছে। এটা শুধু শ্রম আইন লঙ্ঘন নয়, মানবাধিকারের চরম অপমান।”বেতনের অভাবে অনেক কর্মী বাধ্য হয়ে পরিবারসহ বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প চাকরির আশায় প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন। শুধু সংবাদমাধ্যম নয় সিকদার গ্রুপের আওতাধীন পাওয়ার প্ল্যান্ট, এভিয়েশন ও রিয়েল এস্টেট খাতেও একই রকম বেতন সংকট ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। কর্মীরা বলছেন, মাসের পর মাস বেতন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনা পক্ষের নীরবতা রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। “এত বড় করপোরেট গ্রুপের এমন দায়িত্বহীন আচরণ দেশের করপোরেট সংস্কৃতির জন্য লজ্জাজনক।” এই বিষয়ে বাংলাদেশ পোস্টের প্রকাশক ও সম্পাদকসহ সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান রিক হক সিকদার এবং এমডি রন হক সিকদার-এর সঙ্গে ফোন, ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। গ্রুপের ফাইন্যান্স বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী তাসাদ্দেক নূরও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
শ্রম অধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেতন না দেওয়া শুধু চুক্তিভঙ্গ নয়, এটি শ্রমিকের মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, “করপোরেট ব্যবস্থাপনায় দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির অভাব থাকলে এমন সঙ্কট অবশ্যম্ভাবী। এই ঘটনা কেবল সিকদার গ্রুপের নয় এটি বাংলাদেশের করপোরেট নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও শ্রম অধিকার রক্ষায় এক গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”