বিএড সনদ গ্রহণে মাউশির গড়িমসি

শিক্ষা
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণ মাধ্যমিক স্তর। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার গুণগত মান সংরক্ষণে দক্ষ প্রশিক্ষিত শিক্ষকের গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষক প্রশিক্ষন অত্যাবশক হওয়ায় শিক্ষায় স্নাতক ( বিএড) ডিগ্রি অর্জন পেশাগত শর্ত। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে বিএড ডিগ্রিধারীদের উচ্চতর বেতন স্কেল ব্যবস্থা রয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একই কারিকুলামে নিবিড় তত্বাবধানে ১৪টি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এবং ৭৬টি বেসরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বিএড কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা উভয় কলেজ থেকে একই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা এবং সনদ অর্জন করে। ২০০৮ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিত ভাবে বিএড প্রশিক্ষণের গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষণে পরিদর্শন ব্যবস্থা করেন।

পরির্দশন প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন অব্যবস্হাপনা চিহ্নিত করে এবং প্রশিক্ষণের গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৮টি কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। প্রতিবেদনে বন্ধ ঘোষিত ৩৮টি কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট পুনঃ বিবেচনার আবেদন করেন এবং উপস্থাপিত দূর্বলতা উপশমের সময় আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৩৮টি কলেজ বন্ধের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

শিক্ষার্থীদের বিএড ডিগ্রি ভবিষ্যৎ এবং কলেজে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের চাকুরী হারানোর অমানবিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৩টি কলেজ মহামান্য আদালতের স্বরণাপন্ন হন। উল্লেখ্য যে বন্ধ ঘোষিত ৩৮টি মধ্যে ১৫টি কলেজ নিজ থেকে অটোমেটিক স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখে। মহামান্য আদালত ২০১৩ সালে উক্ত ২৩টি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালনার আদেশ দেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন।

পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৩টি কলেজের বিষয়ে আদালতের আদেশের অপব্যাখ্যা করে গত ২১/১/২৫ তারিখে পরিপত্র জারি করেন উক্ত ২৩টি কলেজ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশিষ্ট ৫৩টি বেসরকারি কলেজ থেকে অর্জিত বিএড সনদ গ্রহনযোগ্য হবে না, অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারি আদেশ দেন। ২৩
কলেজের বিষয়ে সরজমিন অনুসন্ধানে আমাদের প্রতিবেদক জানতে পেয়েছেন ইতোমধ্যে ৪টি কলেজ বন্ধ রয়েছে। রহস্যজনক ভাবে বন্ধ কলেজের সনদ কিভাবে অর্জিত হবে? কলেজ বন্ধ কিন্তু সংশ্লিষ্ট কলেজের নামে সনদে কিভাবে স্কেল পরিবর্তন হবে? শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশির আইন শাখার কর্মকর্তারা আদালতের আদেশকে আড়াল করেছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে। আদালতের আদেশেকে নগ্ন ভাবে উপস্থাপন করে আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে মাউশির আইন শাখার কর্মকর্তা মোঃ আল আমিন সরকার। কে এই আল আমিন সরকার,তার খুঁটির জোড় কোথায় জনমনে প্রশ্ন? অনুসন্ধানে জানা যায় বিগত সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনায় আইন শাখায় বদলী হয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর একই চেয়ারে আসীন। সরকার পরিবর্তনের পরেও বিগত সরকারের দোসরদের প্রতিষ্ঠিত করতে অতি গোপনীয় ভাবে কাজ করেছেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এমনকি কর্মরত মাধমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিএড স্কেল পরিবর্তনে উপস্থাপিত বিএড সনদের ফাইল রিজেক্ট করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অপসিদ্ধান্তের বিষয়ে ভুক্তভোগী কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরাসরি আলোচনায় সমাধান আবেদন করে কোন সুরাহা হয়নি।

বিএড সনদের কার্যকারিতা বিষয়ক পরিপত্র চ্যালেন্জ করে ৬৪৮৪/২০২৫ রিট পিটিশনে ২০/৫/২৫ তারিখে, ১০৬২৫/২০২৫ রিট পিটিশনে ৩০/৭/২৫ এবং ২২/৬/২৫ তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে কতিপয় কলেজ ৯৯৪৩/২০২৫ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন এবং ৩০/৬/২৫ তারিখে উক্ত পরিপত্র স্থগিতাদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত১২/০৮/২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে মহামান্য আদালতকে এবং মন্ত্রণালয়কে জানাতে নির্দেশনা দিয়েছেন কিন্তু অদ্যবধি মাউশি কর্তৃপক্ষ এই সংক্রান্ত কোন ব্যবস্হা না নিয়ে কালক্ষেপণ করে শিক্ষকদের স্কেল পরিবর্তন বাধা সৃষ্টি করছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিএড স্কেল আবেদন জেলা শিক্ষা অফিস গ্রহন করতে অপারগতা প্রকাশ করছে। কারণে হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকতারা অধিদপ্তরের আদেশ সংক্রান্ত চিঠি ছাড়া কোন আবেদন গ্রহন করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন।

অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কর্মকর্তার বিএড স্কেল পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সাথে প্রতিনিয়ত বিব্রতর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে এবং দ্রুত এই বিষয়টি নিষ্পত্তি আশা করছে। উল্লেখ্য যে স্কেল সংক্রান্ত আবেদন প্রতি জোড় মাসের ৬ তারিখে মধ্যে প্রেরণ করতে হয়। মহামান্য আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে অধিদপ্তরের কালক্ষেপণের ফলে স্কেল বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অবিলম্বে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ে পত্র প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী শিক্ষকগন জোর দাবি জানিয়েছেন। আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্বের ফলে ক্ষতিগ্রস্হ শিক্ষকরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা এবং ক্ষতি পূরণের মামলা করার পরিকল্পনা করছেন বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *