প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হলেন সাংবাদিক আবদাল আহমদ

অন্যান্য জাতীয় প্রচ্ছদ
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদকে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গ্রেড-১ পদমর্যাদায় তাঁকে এক বছর মেয়াদে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল,২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সৈয়দ আবদাল আহমদকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

সৈয়দ আবদাল আহমদ বাংলাদেশের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংবাদপত্র জগতে সক্রিয় এবং সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম সংস্কার বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

পেশায় সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদের জন্ম ১৯৬২ সালের ২৮ নভেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের নাসিরপুর গ্রামে। তবে তিনি সিলেটের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে বিএসসি অনার্স ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৮২ সালে দৈনিক বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করে এ পত্রিকায় ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দৈনিক আমার দেশ ছাড়াও কাজ করেছেন বাসস, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক দিনকাল, সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ বিভিন্ন পত্রিকায়।

সৈয়দ আবদাল আহমদ ২০১১-২০১৫ সময়ে দুই মেয়াদে টানা পাঁচ বছর জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া সাংবাদিক সংগঠন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (JUJA)-এরও সাবেক সাধারণ সম্পাদক (১৯৮৪–৮৫) ছিলেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক ও কিশোর মাসিক টুনটুনির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। এছাড়া তিনি মিডিয়া রিফর্ম কমিশন-এর একজন সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।

সৈয়দ আবদাল আহমদ ১৯৯২-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপ-প্রেসসচিব (সরকারের উপ-সচিব পদমর্যদা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য ১৯৮৯ সালে মর্যদাপূর্ণ ফিলিপস পুরস্কার, এসকাপ-এফইজেবি পুরষ্কার এবং ২০২৫ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির আজীবন সম্মাননা লাভ করেন।

সৈয়দ আবদাল আহমদ ২০ টিরও বেশি বইয়ের লেখক। এর মধ্য উল্লেখযোগ্য হলো, নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া (প্রথম জীবনীগ্রন্থ) বুড়িগঙ্গা তীরের রহস্যনগরী, কিংবদন্তির জিয়া, চিরকালের ছড়া কবিতা, মহান ভাষা আন্দোলন, জলবায়ু পরিবর্তন, নবীজি (সা.), গণতন্ত্রের সংগ্রাম, পড়শী বাড়ীর খোঁজখবর, জলচর আদুরে প্রাণী ডলফিন, পাঁচটি গণ আন্দোলন, প্যারিস আইফেল টাওয়ার মোনালিসা, টুনটুনির গল্প, বিজয় ও স্বাধীনতা।

সৈয়দ আবদাল আহমদ দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে যুক্ত থেকে প্রায় ১৬ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের গণমাধ্যম খাতে নীতি সংস্কার, সাংবাদিকদের সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। সৈয়দ আবদাল আহমদ একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সাংবাদিক, যিনি সংবাদপত্র সম্পাদনা, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং মিডিয়া সংস্কার—এই তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে তাঁর অবস্থান তাকে দেশের সাংবাদিক সমাজে পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *