সংকট কাটেনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে

প্রচ্ছদ রাজনীতি
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভোটের মাঠে নামার পরও সংকট কাটেনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে। আসন সমঝোতা, একাধিক প্রার্থী এবং জোট শরিকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় নির্বাচনী প্রস্তুতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জোটের ভেতরের এই সংকট প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, পাবনার দুটি আসন বাদ দিয়ে ২৯৮টি আসনে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৩ জন, অর্থাৎ একাধিক আসনে একাধিক প্রার্থী। যদিও ছয়টি আসন উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা ছিল, বাস্তবে অন্তত ১৩টি আসনে এখনো প্রার্থী সংকট নিরসন হয়নি। এ সব আসনে জোট শরিকদের একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠছে।

ভোটের মাঠে নামার আগেই জোটের জন্য বড় ধাক্কা আসে ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগের মাধ্যমে। আসন সমঝোতা না হওয়াই এর প্রধান কারণ হিসেবে জানানো হয় দলটির পক্ষ থেকে।

ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটের ভেতরে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হলেও এখনো সমন্বয়হীনতা কাটেনি। বরং একাধিক আসনে প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।

এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া সাতটি আসনেও জোটের অন্যান্য শরিক দলের প্রার্থী থাকায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জোটের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে দিকনির্দেশনার অভাব দেখা দিচ্ছে।

অনেক এলাকায় একই জোটের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারে নামায় ভোট বিভাজনের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জোটের শীর্ষ নেতারা দাবি করছেন, খুব শিগগিরই আসন সমঝোতার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে এবং বিভ্রান্তি দূর করা হবে। তাদের ভাষায়, ১০ দলীয় ঐক্যজোট গণঅভ্যুত্থান, সংস্কার ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে মাঠে থাকবে। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—সমঝোতার আশ্বাস থাকলেও বাস্তবায়নের গতি ধীর।

এদিকে, জোট থেকে বেরিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টিও এককভাবে ১৯২টি আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। ফলে ভোটের মাঠে প্রতিযোগিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

সবমিলিয়ে বলা যায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে এখনো সংকট কাটেনি। আসন সমঝোতা ও প্রার্থী সমন্বয়ের এই জটিলতা যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে জোটটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *