শরীফ ওসমান হাদির লেখাপড়া ও পরিবার

জাতীয়
Spread the love

ডেস্ক রিপোর্ট :

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় চলন্ত একটি মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ওই রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সেখানে নিয়েও বাঁচানো যায়নি হাদিকে। সবাইকে কাঁদিয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে না ফেরার দেশে পারি জমান ওসমান হাদি।

জানা গেছে, শরিফ ওসমান বিন হাদি ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। পারিবারিক ধর্মীয় ও নৈতিক পরিবেশ হাদির জীবন ও চিন্তাধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ।

শরিফ ওসমান হাদির শিক্ষাজীবনের শুরু ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসায়। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে আলিম পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।

মাদ্রাসার গণ্ডি পেরিয়ে ওসমান হাদি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ)। সেখান থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেও তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে তিনি প্রাইভেট পড়িয়েছেন, সাইফুর’সসহ বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেছেন। সর্বশেষ তিনি ইউনিভার্সিটি অব স্কলারসে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করার পর শরিফ ওসমান হাদি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি স্বনামধন্য কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিজীবনে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন এক সন্তানের জনক।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবার মূলত আলেম ও শিক্ষাবিদদের। ওসমান হাদিসহ ছয় ভাই-বোনের এই পরিবারে প্রায় সবাই ধর্মীয় শিক্ষা ও শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত। তার বাবা মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। বড় ভাই মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়ার একটি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেঝো ভাই মাওলানা ওমর ফারুক ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

ওসমান হাদির তিন বোনের স্বামীরাও শিক্ষকতা ও দ্বীনি শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। বড় বোনের স্বামী মাওলানা আমির হোসেন নলছিটি ফুলহরি আব্দুল আজিজ দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং একটি মসজিদের ইমাম। মেঝো বোনের স্বামী মাওলানা আমিরুল ইসলাম ঢাকায় ব্যবসা করেন। ছোট বোনের স্বামী মাওলানা মনির হোসেন নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।

ঝালকাঠির এন এস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হাদি ছাত্রজীবন থেকেই অসম্ভব মেধাবী ছিলেন। তিনি ছিলেন সুবক্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *