নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট নিরসন এবং সরকারের বার্তা সঠিক উপায়ে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিসিএস তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।” বৃহস্পতিবার ( ১ জানুয়ারি,২৬) রাজধানীর কল্যাণপুর দারুস সালাম রোডে অবস্থিত জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটে (নিমকো) ‘বিসিএস (তথ্য) ৪২তম পেশাগত প্রবেশক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদফতর-এর প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) মহাপরিচালক খালেদা বেগম এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে মোনাজাত করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, “ তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তারা এখন ফ্রন্টলাইনে। সামনে আমাদের নির্বাচন ও গণভোট কার্যক্রম পরিচালনার গুরুদায়িত্ব রয়েছে। মাঠ প্রশাসনে তথ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। জনগণের কাছে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিভ্রান্তি দূর করা আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি আরও জানান, কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে খুব শীঘ্রই একটি স্বতন্ত্র ‘তথ্য একাডেমি’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান এনডিসি কর্মকর্তাদের সততা ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “লোভ ও ভোগবাদিতা পরিহার করে নিষ্ঠার সাথে মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত লোভ-লালসা পরিহার করে জনসেবায় আত্ননিয়োগের মাধ্যমে আত্মতুষ্টি ও উৎকর্ষ অর্জন সম্ভব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান তথ্য অফিসার মো. নিজামূল কবীর প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধি-বিধান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “প্রকল্প প্রণয়ন (DPP) ও বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ হতে হবে, যাতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়।”
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) মহাপরিচালক খালেদা বেগম বলেন, “তথ্য ক্যাডার এমন একটি ইউনিক সার্ভিস, যার মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাই সর্বদা নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে।” অন্যদিকে, ”গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল বলেন, “একটি বৈষম্যহীন ও ‘রেইনবো সোসাইটি’ বিনির্মাণে এই প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
১২ সপ্তাহব্যাপী (৩ মাস) এই কঠোর প্রশিক্ষণ কোর্সে বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ২২ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে দাপ্তরিক ও আর্থিক বিধি-বিধান, গণযোগাযোগ কৌশল, উন্নয়ন সাংবাদিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ফ্যাক্ট চেকিং, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা এবং আইসিটি বিষয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।
পুরস্কার ও ফলাফল: অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মেধা ও দক্ষতাকে স্বীকৃতি দিয়ে সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
মহাপরিচালক পদক (সর্বোচ্চ সম্মাননা): সাইফুদ্দিন আল মাদানী, তথ্য অফিসার, জেলা তথ্য অফিস, পিরোজপুর। মেধা তালিকায় ১ম স্থান: রকিবুল হাসান, তথ্য অফিসার, জেলা তথ্য অফিস, সিলেট। মেধা তালিকায় ২য় স্থান (যৌথভাবে): মোছাঃ আফসানা মিমি, তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর, ঢাকা। ও মো. বেলায়েত হোসেন, তথ্য অফিসার, জেলা তথ্য অফিস, খাগড়াছড়ি। মেধা তালিকায় ৩য় স্থান (যৌথভাবে): সাইফুদ্দিন আল মাদানী ও নোবেল দে, তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদপ্তর, ঢাকা।
শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থাপক: মো. আব্দুছ ছাত্তার, তথ্য অফিসার, জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাঠ্যধারা পরিচালক ও নিমকোর উপপরিচালক মো. আবুজার গাফফারী। প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করেন সাইফুদ্দিন আল মাদানী ও মোসাম্মৎ আফসানা মিমি। অনুষ্ঠানে কোর্স উপদেষ্টা ও পরিচালক ( প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান) ড. মো. মারুফ নাওয়াজ, পাঠ্যধারা সমন্বয়ক ও উপপরিচালক মোঃ আব্দুল মান্নান এবং সহকারী পরিচালক মকবুল হোসাইনসহ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।