নিজস্ব প্রতিবেদক :
সকালের আলো ফুঁড়ে যখন একে একে স্কুলে ঢুকছিল শিক্ষার্থীরা, তখনই যেন রাজধানীর মিরপুরে ইংলিশ মিডিয়িাম স্কুল ‘আইএসএম’ (ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব মিরপুর) প্রাঙ্গণ ভরে উঠছিল এক অন্যরকম উচ্ছ্বাসে। কোথাও রঙিন কাগজে সাজানো দরজা, কোথাও ক্লাসরুমের ছাদে উড়ছে বেলুন, কোথাও রঙিন ব্যানার, আবার কোথাও ঝুলিয়ে রাখা সাজানো থিম বোর্ড আর বাচ্চাদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ।
ক্লাসরুমগুলো যেন আর সেই পরিচিত চার দেয়াল নেই। এক কথায় সবমিলিয়ে পুরো স্কুল ক্যাম্পাস পরিণত হয় উৎসব মুখর এক কার্নিভ্যালে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর,২৫) সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর ১৩ নম্বরে ‘আইএসএম’ সারা স্কুল জুড়ে ছিল যেন অন্যরকম এক উৎসবের আমেজ। প্লে, নার্সারি থেকে সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ছিল নানা রকম থিম-ভিত্তিক সাজসজ্জা, পারফরম্যান্স, কেক কাটা ও আনন্দঘন মুহূর্তে ভরা এক অনন্য দিন। পড়াশোনার নিয়মিত চাপের বাইরে শিশুরা যেন নিজেদের ভেতরের রঙগুলো একসঙ্গে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছিল ক্লাস শেষে বছরের এই বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে।
আইএসএম স্কুলের ক্লাস পার্টিতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভেতরের রঙগুলোকে মেলে ধরেছিল সৃজনশীলতার কার্নিভ্যালে। শিক্ষকরা দাঁড়িয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন একের পর এক দলবদ্ধভাবে আসা শিশুদের। যেন প্রতিটি শিশু সেই দিনের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়েছে।
পড়াশোনার চাপের বাইরে আনন্দময় শেখা! থিমভিত্তিক সাজসজ্জা, পারফরম্যান্স আর কেক কাটায় যেন ভরে উঠল আইএএম প্রাঙ্গন। এরপর সকাল ১০টার দিকে ছিল কেক কাটার অনুষ্ঠান। প্রতিটি ক্লাসেই আলাদাভাবে কেক কেটে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স সেশন। সবমিলিয়ে প্রতিটি ক্লাসই রূপ নেয় ক্ষুদ্র উৎসবমঞ্চে। শিক্ষকরা জানান, শুধু উৎসব নয় শিক্ষার্থীদের সারাবছরের শেখাকে আনন্দমুখর করতেই এই বিশেষ আয়োজন বা ক্লাস পার্টি।
প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইয়াহিয়া খান রিজন বলেন, পড়াশোনা-পরীক্ষার চাপের বাইরে ক্লাস পার্টি ঘিরে এ ধরনের উৎসব শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগ বাড়ায়, শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। নিজেদের মেধার জায়গাগুলো চর্চার সুযোগ পায়। ফলে তাদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই এমন আয়োজনকে নিয়মিত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, শিশুরা শুধু বইয়ের মাধ্যমে নয় অভিজ্ঞতা, পরিবেশ ও বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে শেখে। সেজন্য ক্লাস পার্টিকে শুধু বিনোদনের উৎসব নয়, বরং শেখার উৎসবে পরিণত করতে চান তারা। তাই নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে হাসি, কোলাহল আর উজ্জ্বল চোখে শিক্ষার্থীরা যেন আজকে নিজেদের স্বপ্নে রঙ মেশানোর সুযোগ পেল। আর সেই ফাকে অভিভাবকেরাও ছিলেন ছবি তোলার ব্যস্ততায়।
চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইয়াহিয়া খান আরও বলেন, শিশুদের শেখাকে আনন্দময় করতে আমরা সবসময় চেষ্টা করি। আজকের দিনে তাদের উচ্ছ্বাস দেখে আমরাও সত্যিই অনুপ্রাণিত। এই আয়োজন বাচ্চাদের সৃজনশীলতা, দলগত কাজ, কল্পনাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। পড়াশোনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতেই এমন উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের আয়োজনে আমি যে উদ্দীপনা দেখেছি, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা, নেতৃত্ব ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের উৎসবমুখর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।