বিদেশে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা তো আছে : রিচি সোলায়মান

বিনোদন
Spread the love

বিনোদন ডেস্ক :

যশ-খ্যাতি কুড়ানোর পরও চিরচেনা জন্মভূমি রেখে দেশের অনেক তারকা অভিনয়শিল্পী বিদেশে থিতু হয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন—ট‌নি ডায়েস, শ্রাবস্তী দত্ত তিন্নি, রুমানা খান, ‌মোজেজা আশরাফ মোনালিসা, শাবনূরসহ অনেকে। ইদানীং তারকাদের এই ঝোঁক বহু গুণে বেড়েছে। জায়েদ খান, অমিত হাসান, মাহিয়া মাহিসহ একঝাঁক তারকা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি কোনো কোনো তারকা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। ফলে বিষয়টি এখন বহুল চর্চিত। প্রশ্ন উঠেছে—শিল্পীরা কেন বিদেশের প্রতি ঝুঁকেছেন?

প্রায় দেড় যুগ ধরে স্বামী-সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। বেশ কিছু দিন ধরে সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে বসবাস করছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রিচির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ইদানীং অনেক শিল্পী বিদেশে চলে যাচ্ছেন, বিদেশে কী আছে যা দেশে নাই? এ প্রশ্নের জবাবে রিচি সোলায়মান বলেন, “কেন যাচ্ছে তা নিয়ে বলব না, সবাই সবার জীবনের তাগিদে যাচ্ছে। আর দেশে যেটা নাই সেটা হলো, আমাদের দেশে আর্টিস্টদের কোনো সোশ্যাল সিকিউরিটি নাই, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নাই, তাহলে একটা মানুষ সারা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনটা কাটাবে?”

ব্যাংক লোন নিতে গেলেও বোধহয় শিল্পীরা পান না—সঞ্চালকের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে রিচি সোলায়মান বলেন, “শিল্পীদের কোনো স্বীকৃতি নাই, মর্যাদা নাই, তাহলে কেন সে বেটার অপশন খুঁজবে না? পৃথিবীর কোন মানুষটা ভালো থাকতে চায় না! সে একজন শিল্পী হোক, একজন রিকশাচালক বা ভ্যানচালক হোক—কে ভালো থাকতে চায় না?”

খানিকটা ব্যাখ্যা করে রিচি সোলায়মান বলেন, “এই দেশে যদি আমার কোনো সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকে, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা না থাকে, আমার আত্মমর্যাদা না থাকে, ব্যাংক লোন নিতে গেলে ব্যাংক থেকে বলবে—শিল্পী, এ পেশার কোনো স্বীকৃতি নাই। অথচ আমরা কতটা কষ্ট করে কাজ করি! আমি এখন কাজ করি না। আমি অনেকবারই বলেছি, অভিনয় এখন আমার প্রোয়োরিটি না। যারা কাজ করছেন, আমরা করে এসেছি, আমরা কতটা কষ্ট করে কাজ করেছি। অথচ আমাদের কোনো স্বীকৃতি নাই। তাহলে কেন শিল্পীরা বিদেশের প্রতি ঝুঁকবে না?”
রিচি সোলায়মান

বিদেশে গিয়েও কী শিল্পীরা ভালো আছেন—সঞ্চালকের পাল্টা প্রশ্নের জবাবে রিচি বলেন, “ভালো থাকা মন্দ থাকা আপেক্ষিক ব্যাপার। বিদেশে গিয়ে ভালো আছে না মন্দ আছে সেটা বলব না, কিন্তু তার অর্থনৈতিক নিরাপত্তা তো আছে! তার সোশ্যাল সিকিউরিটি তো আছে! সে জানে তার জীবনের উপরে একটা হুমকি আসলে, সেই দেশের পুলিশ নিরাপত্তা দেবে। আজকে আমি রাস্তায় বের হলে কী বলতে পারি, আমাকে কেউ নিরাপত্তা দেবে!”

আমার মনে হয় আপনি বিদেশে বসবাস করার পর এসব বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। আমি যতটা জানি, বিয়ের পর আপনি বিদেশে যেতে চাননি। আপনার আম্মু আপনাকে বলেছিলেন, ‘তুমি যে জায়গায় কাজ করো, সেটা কচুপাতার পানির মতো।’ সঞ্চালকের এসব কথার পরিপ্রেক্ষিতে রিচি সোলায়মান বলেন, “হ্যাঁ, আম্মু এটা বলেছিলেন। আম্মু বলেছিলেন, ‘এটা কচুপাতার পানি। এটার টলমলে অবস্থা, যেকোনো সময়ে পড়ে যেতে পারে। তখন তোমার আর কিছুই থাকবে না।”

বিদেশে না যেতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রিচি সোলায়মান বলেন, “আমার কষ্ট হচ্ছিল তাই যেতে চাইনি। কারণ এই দেশ তো আমি হৃদয়ে ধারণ করি। ওখানে গিয়ে একটা অনিশ্চয়তা! কিন্তু ওখানে গিয়ে যখন ড্রাইভিং লাইসেন্স পেলাম, আমার বর আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে দিল। তখন ওই দেশটাও আমার ভালো লাগতে শুরু করল। মনে হলো, এ দেশটা আমার। আমি দুই জায়গারই ভালো জিনিস পাচ্ছি এবং নিই—সেজন্য আমার দুই জায়গা থাকতে অনেক ভালো লাগে!”

১৯৮৯ সালে বিটিভিতে প্রচারিত ‘ইতি আমার বোন’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে আসেন রিচি সোলায়মান। তবে ১৯৯৮ সালে ‘বেলা ও বেলা’ নাটকের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন এই অভিনেত্রী। তারপর অনেক জনপ্রিয় নাটক-টেলিফিল্ম উপহার দিয়েছেন। নৃত্যশিল্পী হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে।

২০০৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা রাশেকুর রহমান মালিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রিচি। বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এ দম্পতির একটি পুত্র ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *