ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই ‘কৃষক কার্ড’ : তারেক রহমান

কৃষি জাতীয় প্রচ্ছদ সারাদেশ
Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ করতে হবে এবং সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েনে তিনি। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি,২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ এবং তাদের কাছে সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকরা যাতে ন্যায্য পাওনা ও সরকারি ভর্তুকি সহজে পান, তা নিশ্চিত করতেই এই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা কৃষক কার্ডের কারিগরি দিক, বিতরণ পদ্ধতি এবং ডাটাবেজ তৈরির অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকরা যাতে ন্যায্য পাওনা ও সরকারি ভর্তুকি সহজে পান, তা নিশ্চিত করতেই এই কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সভায় দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষি প্রণোদনা বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কৃষক কার্ডের কারিগরি দিক, বিতরণ পদ্ধতি এবং ডাটাবেজ তৈরির অগ্রগতি অবহিত করা হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনা দেন।

কৃষক কার্ড: ধারণা কৃষক কার্ড প্রকৃতপক্ষে সরকারি কৃষি সেবাকে স্বচ্ছ, আধুনিক ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কৃষকের কাছে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহিত কৌশল।

কার্যপত্রে বলা হয়, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার: নির্ভরযোগ্য, উন্নতমান এবং কার্যকর হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের উপর ভিত্তি করে নিরবিচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সেবা প্রদানে লক্ষ্যে কৃষক কার্ড কর্মসূচি গড়ে তোলা। ডেটা সেন্টার: কৃষক কার্ডের জন্য সংগৃহীত তথ্য নির্ধারিত সরকারি ডেটা সেন্টারে নিরাপদে সংরক্ষণ করা। সাইবার সিকিউরিটি: তথ্যের সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি জোরদার করা।

মোবাইল অ্যাপ সংযোগ: মোবাইল অ্যাপ অথবা এসএমএস-এর মাধ্যমে কৃষক কার্ড ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি ও লেনদেনের তথ্য দেখতে পারবেন এবং কৃষি কর্মসূচিসহ আর্থিক সেবা সম্পর্কিত ক্ষুদে বার্তা সহজেই গ্রহণ ও প্রেরণ করতে পারবেন। স্মার্ট অ্যাপের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশ্ন এবং উত্তর জানাসহ শস্য উৎপাদনে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ জানতে পারবেন। অংশিদারিত্ব: আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সহায়তাকারী, এনজিও, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে কৌশলগত অংশিদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষক কার্ডের ব্যবহার প্রসারিত করা। কল সেন্টার: কৃষকরা নির্ধারিত কল সেন্টার নম্বরে বিনামূল্যে ফোন করে কৃষক কার্ডের সকল সেবা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন।

প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব: বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে প্রথম সারির সম্মুখযোদ্ধা দেশের কৃষক। তাদেরকে স্বচ্ছতা ও সময় উপযোগী সরকারী সেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘুযোপযোগী সিদ্ধান্ত। তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক কৃষক কার্ড প্রনয়ন, পরিচালনা কোন একটি একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয় বরং সরকারি কৃষি পরিষেবা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ও সম্মিলিত উদ্যোগ। নিচে কৃষি কার্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নের একটি সংক্ষিপ্ত রোডম্যাপ উপস্থাপিত হলো।

প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব: বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে প্রথম সারির সম্মুখযোদ্ধা দেশের কৃষক। তাদেরকে স্বচ্ছতা ও সময় উপযোগী সরকারী সেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘুযোপযোগী সিদ্ধান্ত। তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক কৃষক কার্ড প্রনয়ন, পরিচালনা কোন একটি একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয় বরং সরকারি কৃষি পরিষেবা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন একটি সুনির্দিষ্ট ও সম্মিলিত উদ্যোগ। নিচে কৃষি কার্ড কর্মসূচী বাস্তবায়নের একটি সংক্ষিপ্ত রোডম্যাপ উপস্থাপিত হলো। ডাল, তৈলবীজ ও চিনি আমদানী নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কৃষক কার্ড ম্যাপিং এর মাধ্যমে সঠিক পরিসংখ্যান ও পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন।

কৃষক কার্ড ম্যাপিং এর মাধ্যমে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত আলু, আম, প্রভৃতি উচ্চ মূল্য ফসল দ্রুততার সাথে মাঠ থেকে সরাসরি রপ্তানির লক্ষ্যে পরিকল্পনা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন। প্রাথমিক পর্যায়ে ভূমিহীন কৃষকদের বসতবাড়িতে সবজি, মৌসুমী ফল, হাঁস-মুরগী ইত্যাদি। পালনের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুপারভাইজড আর্থিক প্রনোদনা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাজেটে এই অর্থের সংস্থান হবে। এই বিনিয়োগ প্রকৃত পক্ষে বহুগুনে ভূমিহীন কৃষকের পারিবারিক অর্থনীতি এবং সমষ্টিকভাবে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, বসতবাড়িতে নিয়মিত সবজি উৎপাদন ও হাঁস-মুরগী পালন করলে কৃষক পরিবারের অতিরিক্ত আয় ৫ গুনেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। কৃষক পরিবারের নারী সদস্যরা মূলতঃ বসতবাড়িতে এসকল কর্মকান্ডের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নে এবং হত দরিদ্র কৃষক পরিবারের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন হলে ফুড সিকিউরিটি ইনডেক্স প্রতিটি ধাপে তরতর করে উপরের দিকে উঠতে থাকে। এভাবেই প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সত্যিকার অর্থে অনুধাবন করে যুগান্তকারী কৃষক কার্ড প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *