প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত থাকুক

অন্যান্য জাতীয়
Spread the love

ইয়াহিয়া খান রিজন :

একসময় যেখানে কূটনীতির প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, সেখানে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অর্থনীতি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, জলবায়ু সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রীয় উপাদানে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফর নয়; বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল, আঞ্চলিক ভারসাম্য নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যায়। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর, যেখানে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি চীনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই অগ্রাধিকার বাংলাদেশের বাস্তববাদী ও স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন, যার মূল লক্ষ্য উন্নয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করা।

১৯৭৫ সালের অক্টোবরে কূটনৈতিক সম্পর্ক হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও চীনের রাজনীতি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে কিন্তু দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক চরিত্রে তেমন বদল হয়নি। চীনের সাধারণ নীতি হচ্ছে, সব ধরনের সরকারের সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো রাখা এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সবার ওপরে জায়গা দেওয়া। কোনো দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আছে নাকি সামরিক বা স্বৈরাচারী সরকার, সেটা তাদের বিবেচনার বিষয় নয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা–ই দেখা গেছে। বলা যায়, বাংলাদেশের কোনো সরকারের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক সেই অর্থে কখনো খারাপ হয়নি।

আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চীন-ভারতের সম্পর্ক খুবই প্রতিযোগিতামূলক। আমরা জানি, গত আওয়ামী লীগ শাসনে বাংলাদেশ পুরোপুরি ভারতের প্রভাববলয়ের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল। এতে চীনের যে খুব সমস্যা হয়েছে, তা নয়। হাসিনা সরকারের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছে এবং চীনের সহায়তায় সে সময় অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। হাসিনার আমলে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারেও পরিণত হয়। আবার হাসিনার পতনেও তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানদের চীন সফরের চেয়ে এবারের সফরকে কেন আলাদা করে দেখতে হচ্ছে, এবার সেই প্রসঙ্গে আসছি। দুই দেশের সম্পর্কের পাঁচ দশকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের সফরের সময় তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ-চীন যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। সেই ইশতেহার এবং সামগ্রিক সফর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এবারই প্রথম আর্থিক সহায়তা বা উন্নয়ন প্রকল্পভিত্তিক আলোচনার চেয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ের সহযোগিতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। উচ্চপর্যায়ের এই ধরনের বৈঠক কেবল তাৎক্ষণিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে না; বরং দীর্ঘমেয়াদে নীতিগত সমন্বয়, পারস্পরিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সহযোগিতার ভিত্তিও শক্তিশালী করে।

সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে মোট সতেরোটি সমঝোতা স্মারক (গড়ট) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হয়েছে। সমঝোতা স্মারক নিজে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা না দিলেও এগুলো ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য নীতিগত ভিত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং পারস্পরিক অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতায় অনেক বড় উন্নয়ন প্রকল্পই প্রাথমিকভাবে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমেই অগ্রসর হয়।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার প্রচেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বাস্তবতা। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের বাজারে কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আম, কাঁঠাল ও পেয়ারার পাশাপাশি চামড়া, হিমায়িত মাছ, ওষুধ এবং হালকা শিল্পজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদি এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের উৎপাদন ও কৃষিখাতের জন্যও নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পারে।

অবকাঠামো উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই সফরে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি নতুন কৌশলগত অবকাঠামো উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক, নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আলোচনায় আসা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তথাপি আলোচনার ধারাবাহিকতা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা বহাল রেখেছে।

এই সফরের কূটনৈতিক তাৎপর্যও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারতের মধ্যে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাস একটি জটিল বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো ভারসাম্যপূর্ণ, বহুমুখী এবং জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা সেই বৃহত্তর কৌশলগত ভারসাম্যেরই অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

একই সঙ্গে এই সফর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ, যৌথ সহযোগিতার কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতি প্রতিশ্রুতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নীতিগত স্থিতিশীলতা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেন। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরের প্রতীকী মূল্যও কম নয়।

তবে বাস্তবতার প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সব সমঝোতা স্মারক সমান গতিতে বাস্তবায়িত হয়নি। প্রশাসনিক জটিলতা, অর্থায়ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, নীতিগত বিলম্ব এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা অনেক সময় ঘোষিত উদ্যোগের গতি কমিয়ে দিয়েছে। ফলে এবারের সফরের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে ঘোষণার সংখ্যায় নয়, বরং কতগুলো উদ্যোগ বাস্তব বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পরিণত হয়, তার ওপর।

প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সবুজ জ্বালানি, স্মার্ট অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্য প্রযুক্তির মতো খাতে সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশ্ব যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় দ্রুত অভিযোজিত হচ্ছে, তখন এসব খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।

আঞ্চলিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সফরের তাৎপর্য রয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যিক সংযোগ এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত গুরুত্বও বৃদ্ধি করতে পারে।

আমরা দেখেছি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মত–পথের নেতা-কর্মী ও ছাত্রনেতারা চীন সরকারের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেছেন। গত কয়েক বছরে দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনের সহায়তায় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট হয়েছে। বোঝা যায় সামনে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়বে।

এবার যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তার মধ্যে চীনা ভাষা শিক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে সহায়তার মতো বিষয়গুলোও রয়েছে। বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বিষয়টি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; কূটনীতিতে দলীয় যোগাযোগের কৌশলগত গুরুত্ব আছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন এখন এই নীতি অনুসরণ শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি সম্ভাবনাময় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই সফর দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ক্রমেই উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে যেকোনো কূটনৈতিক সফরের প্রকৃত সাফল্য শেষ পর্যন্ত ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে নির্ধারিত হয়। যদি সমঝোতা স্মারকগুলো কার্যকর প্রকল্পে রূপ নেয়, বিনিয়োগ বাস্তবে আসে, রপ্তানি সম্প্রসারিত হয় এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দৃশ্যমান ফল দেয়, তাহলে এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যথায় এটি একটি সম্ভাবনাময় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেই ইতিহাসে স্থান পাবে।

অতএব, এই সফরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—বর্তমান বিশ্বে সফল পররাষ্ট্রনীতি কেবল রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না; বরং অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

লেখক: অধ্যক্ষ, মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুল এন্ড কলেজ; চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ডিজিটার স্কুল সোসাইটি (বিডিএসএস)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *