নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার ( ১ জুন,২০২৬) বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন পরিবারের পক্ষ থেকে থেকে দেশের একাধিক গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দূর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার বাদ মাগরিব রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার মরদেহ ভোলায় নেওয়া হবে। সেখানে জোহরের নামাজের পর ভোলা জেলা স্কুল মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। পরে ভোলায় স্ত্রীর কবরের পাশে শায়িত করা হবে।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা জেলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদের জন্ম। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।
১৯৬৮-৬৯ এর উত্তাল সময়ে তোফায়েল ছিলেন ডাকসুর ভিপি। সে হিসেবে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন ছাত্রসমাজের নেতৃত্বের ভূমিকায়।
১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন তোফায়েল। স্বাধীন বাংলাদেশে ৯ বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। সর্বশেষ তিনি ভোলা-১ আসনের এমপি ছিলেন।
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে পরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন তোফায়েল আহমেদ। সবশেষ তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।