‘খেলা হবে’ মমতার ‘খেলা হলো শেষ’

আন্তর্জাতিক
Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা চলছে। কয়েক মাসের অপেক্ষার শেষ আজ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল আজ সোমবার (৪ মে) প্রকাশ হচ্ছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সেই ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল আজ জানা যাবে।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে ৮৯টি আসনে এগিয়ে লড়াই চালানোর চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

প্রাথমিক কমিশন-পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার করে সরকার গড়ার পথে এগোচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ম্যাজিক ফিগার পার করতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। এমন অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘খেলা শেষ’ লেখা বার্তা দিয়েছে বিজেপি। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনুব্রত মণ্ডল ‘খেলা হবে’ স্লোগান দেন, যা দ্রুতই খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই স্লোগান বহুবার ব্যবহার করেন। এর জবাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ‘খেলা শেষ’ বার্তা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি’-এর কেন্দ্র হলো কলকাতা। এখানে অন্তর্ভুক্ত আরো চারটি প্রধান জেলা হচ্ছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। সহজ কথায় কলকাতা ও তার আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণবঙ্গের অঞ্চলই বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি নামে পরিচিত। রাজ্যের রাজনীতির গতিপথও নিয়ন্ত্রিত হয় এই অঞ্চল থেকে।

পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি থেকে মাত্র ১৪টি আসনে বিজয়ী হয় বিজেপি। এবার সেটি কমপক্ষে ৫৪টিতে পৌঁছানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীতে গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের আসনসংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে ৫১টিতে নামতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বিজেপির ব্যাপক সাফল্যই এবার ঘুরিয়ে দিয়েছে খেলার মোড়। সেই সঙ্গে দলটি উত্তরবঙ্গের নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত চা-বাগান অধ্যুষিত জেলাগুলোর বাইরেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে।

২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে ‘খেলা হবে’ গানটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগেসের প্রধান নির্বাচনী সংগীতে পরিণত হয়। পাঁচ বছর পর হুগলিতে সেই গানের স্রষ্টা দেবাংশু ভট্টাচার্যকে এবার প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। এ জন্য দলটি চুঁচুড়ার বর্তমান বিধায়ক অসিত মজুমদারকে মনোনয়ন দেয়নি।

তবে এই বাজি উল্টো ফল দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ‘খেলা হবে’ গানের রচয়িতার সামনেও হাতছানি দিচ্ছে পরাজয়ের, অর্থাৎ ‘খেলা শেষ’ হওয়ার সুর। সেই সঙ্গে গোটা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি অঞ্চলেই পাওয়া যাচ্ছে মমতার খেলা শেষের ইঙ্গিত।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় অর্ধেকের বেশি আসনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে হলে বিজেপিকে প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে ফাটল ধরাতেই হতো। আর সেটির ইঙ্গিত এরই মধ্যে মিলতে শুরু করেছে।

উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির মতো নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখার পাশাপাশি বিজেপি আগে অতীতের দুর্বল এলাকাগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেতে চলেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত মেদিনীপুর এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্সি অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশ- কলকাতা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের দখলের অবসান ঘটছে বলেই মনে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে শেষবার এমন পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল তিন দশকেরও বেশি সময় আগে। সেবার প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে কর্তৃত্ব হারিয়ে ক্ষমতার মসনদ থেকে ছিঁটকে যায় বামপন্থীরা।

পশ্চিমবঙ্গের সব অঞ্চলের মধ্যে বৃহত্তম এই বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিত রয়েছে ১০৫টি আসন। আগেরবারের নির্বাচনে সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ৯০টি আসনে জয় পায়। আর বিজেপি মাত্র ১৪টি আসন জিতছিল। ঘোষিত সবশেষ ফল অনুযায়ী তফসিলি জনজাতি (এসটি) ও তফসিলি জাতির (এসসি) সদস্যদের যেখানে বেশি বসবাস প্রেসিডেন্সি অঞ্চলের হাওড়ার সেই এলাকাগুলোতে গেরুয়া শিবির এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া শ্যামপুকুর, এন্টালি, বেলেঘাটা ও মানিকতলাতেও তারা জয়ের পথে। এর সবগুলোই কলকাতায়।

একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে দমদম ও দমদম উত্তরেও। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখা যাচ্ছে ডায়মন্ড হারবারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত এই আসনে বিজেপির দীপক কুমার হালদার এগিয়ে আছেন।

সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘খেলা’ এবার সত্যিই শেষের পথে। বিজেপি উত্তরবঙ্গে নিজেদের ঘাঁটি ধরে রাখার পাশাপাশি এমন সব আসনেও চমক দেখাচ্ছে যেগুলো এতদিন ছিল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *