হাওরে ফসলের সঙ্গে ডুবেছে কৃষকের স্বপ্নও

প্রচ্ছদ সারাদেশ
Spread the love

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। জেলায় এখন পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার ৩৫ হেক্টর বোরোধানের জমি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইটনা উপজেলা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। বৃষ্টিপাত আর না বাড়লে বড় ধরনের বিপর্যয় কিছুটা এড়ানো যেতে পারে বলে আশা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের পানির চাপে প্লাবিত হয়েছে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। এতে ডুবে যায় পাকা ও আধাপাকা বোরো ধানের হাজার হাজার হেক্টর জমি। এর মধ্যে ইটনা উপজেলাতেই নষ্ট হয়েছে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান। উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অষ্টগ্রাম উপজেলাতেও।

ধান কাটার মৌসুমে এমন আকস্মিক বন্যায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষেত থেকে ধান তুলতে পারেননি অনেকেই। আবার যারা কেটে খলায় তুলেছিলেন, সমস্যায় পড়েছেন তারাও। টানা বৃষ্টি ও রোদের অভাবে ধান শুকাতে না পারায় পচন ধরেছে এবং কোথাও কোথাও চারা গজিয়েছে।

অষ্টগ্রামের পূর্বাঞ্চলের কৃষক মো. রিপন খান জানিয়েছেন, ১০ একর জমির মধ্যে মাত্র ২ একর ধান কাটতে পেরেছেন তিনি। বাকি জমি পানির নিচে। পড়তে হচ্ছে শ্রমিক সংকটে। ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে প্রতিজন শ্রমিককে। বছরে একমাত্র ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় জীবিকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সরকারের উদ্যোগে জেলায় শুরু হয়েছে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের। যা চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
সরকার নির্ধারিত দরে কেনা হবে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা বা প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকায়। তবে গ্রহণ করা হবে না ভেজা বা নিম্নমানের ধান। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মণ পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবেন এবং লেনদেন হবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, ‘পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে সবাইকে।’ আগেই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৬১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর উপজেলাগুলোতে। আর পুরো জেলায় এ হার ৪৯ শতাংশ। প্রায় ৩৬ হাজারে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা। তাদের তালিকা তৈরি করে পাঠানো হচ্ছে মন্ত্রণালয়ে। সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায় দ্রুত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *