বুদ্ধিজীবী হত্যায় প্রধান টার্গেট ছিলেন শিক্ষরা

জাতীয়
Spread the love

রেজাউল করিম ভূঁইয়া :

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে ১৯৭১ সালের এ দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবী। দিনটি বিশেষভাবে শোকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের জন্য। এ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষকদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের প্রায় সবাই ছিলেন কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক আনোয়ার পাশা। বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও খ্যাতিমান নাট্যকার মুনীর চৌধুরীকে এদিন হত্যা করা হয়। তিনি কলা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আছেন বাংলা বিভাগের পণ্ডিত মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকরাও ছিলেন লক্ষ্যবস্তু। এর বাইরেও যে শিক্ষকদের সেদিন হত্যা করা হয়েছিল তারা হয় প্রগতিশীল লেখালেখি অথবা মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের প্রকাশনা থেকে পাওয়া যায় ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নাম।

মুনীর চৌধুরী : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উজ্জ্বল এক চরিত্র মুনীর চৌধুরী। ভাষা আন্দোলনকে উপজীব্য করে লেখা ‘কবর’ নাটকের জন্য তিনি বাংলা সাহিত্য এবং এ দেশের মুক্তি সংগ্রামে এক প্রেরণাদায়ী চরিত্র হয়ে আছেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সভায় তীব্র ভাষায় বক্তৃতা রাখায় তাকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত জেলে থাকা অবস্থায় পরীক্ষা দিয়ে তিনি বাংলা বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি আরো দুবার বন্দি হন। জেলে বন্দি অবস্থায়ই তিনি কবর (১৯৫৩) নাটকটি রচনা করেন।

মুনীর চৌধুরীর কর্মজীবন শুরু হয় খুলনার ব্রজলাল কলেজে (বিএল কলেজ) শিক্ষকতার মাধ্যমে। ঢাকার জগন্নাথ কলেজে কিছুদিন শিক্ষকতার পর ১৯৫০ সালে তিনি যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও বাংলা বিভাগে। শিক্ষকতার পাশাপাশি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ বুদ্ধিজীবী। ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি, ভাষা আন্দোলন ইত্যাদির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মার্চে অসহযোগ আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন। কবরের পাশাপাশি তার মৌলিক নাটক ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ও ‘চিঠি’ও ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিল। মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রমাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

আনোয়ার পাশা : মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসে বিশেষ স্থান করে আছে আনোয়ার পাশার রাইফেল, রোটি, আওরাত। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা এ শিক্ষক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের দৃঢ় সমর্থক। তবে স্বাধীন দেশ তিনি দেখে যেতে পারেননি। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে আলবদরদের একটি দল তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের কাছে তাকে হত্যা করা হয়। তিনি সমাহিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে।

আনোয়ার পাশা ১৯৫৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন মানিকচক মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে। পরবর্তী সময়ে ভাবতা আজিজিয়া মাদ্রাসা ও সাদিখান দিয়ার বহুমুখী হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে শিক্ষকতা করে যোগ দেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। এরপর ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগ দেন। বিএ ছাত্র থাকাকালীন ‘হাসনাহেনা’ শিরোনামে একটি সাহিত্য প্রবন্ধ সংকলনের মাধ্যমে শুরু হয় তার সাহিত্যচর্চা। পরবর্তী সময়ে তিনি নিয়মিতভাবে উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা ও ছোটগল্প লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে নদী নিঃশেষিত হলে (১৯৬৩), নিড় সন্ধানী (১৯৬৮), নিশুতি রাতের গাথা (১৯৬৮), নিরুপায় হরিণী (১৯৭০), রাইফেল, রোটি, আওরাত (১৯৭৩), সমুদ্র শঙ্খলতা উজ্জয়িনী ও অন্যান্য কবিতা (১৯৭৪) ইত্যদি।

মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী : ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন নোয়াখালীর সন্তান মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী। তার শিক্ষাজীবন ছিল বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ। ১৯৪৬ সালে তিনি নন-কলেজিয়েট পরীক্ষার্থী হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় অংশ নেন ও প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। ১৯৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে স্যার আশুতোষ গোল্ড মেডেল দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়, কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ১০০ বছরের ইতিহাসে তার মতো এত বেশি নম্বর পেয়ে কেউ বাংলা (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেনি। সে বছরই তিনি ধ্বনিতত্ত্বে গবেষণার জন্য ইংল্যান্ডে যান। ১৯৭০ সালে সেখান থেকে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিডার পদে উন্নীত হন। তিনি একজন খ্যাতনামা গবেষক ছিলেন। তার গবেষণা গ্রন্থের মধ্যে আছে রবি পরিক্রমা (১৯৬৩), বাংলা বানান ও লিপি সংস্কার (১৯৬২), রঙীন আখর (১৯৬৩), সাহিত্যের নব রূপায়ণ (১৯৬৯), Colloquial Bengali (1959), Some supra-segmental Phonological Features of Bengali (1959) । তিনি অনেক কবিতা, গল্প ও নাটকও লিখেছেন। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি অপহৃত হন। তার মরদেহটিও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গিয়াসউদ্দিন আহমেদ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ছিলেন গিয়াসউদ্দিন আহমেদ। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষকদের বাসভবন থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইতিহাসের এ শিক্ষক গোপনে শহীদ শিক্ষক পরিবারের জন্য অর্থ, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খবর, খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ করেছেন। ছোটভাই ডা. রশীদউদ্দিন আহমেদের সাহায্য নিয়ে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন তিনি। একসময় এসব খবর হানাদার বাহিনীর কাছে পৌঁছে যায়। ১৭ নভেম্বর তাকে ধরে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা। ২০ নভেম্বর তিনি ছাড়া পান। এরপর ১৪ ডিসেম্বর সকালে আলবদর বাহিনী গিয়াসউদ্দিন আহমেদকে ঢাবি ক্যাম্পাস থেকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়। ২০ দিন পর স্বাধীন দেশে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া যায় তার মরদেহ। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের কাছে সমাহিত করা হয়। স্পষ্টভাষী, কর্মঠ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে গিয়াসউদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। জ্ঞানের গভীরতা ও পাণ্ডিত্যের জন্যও তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

এসএমএ রাশীদুল হাসান : পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বরশিজা গ্রামে জন্ম এসএমএ রাশীদুল হাসানের। মুর্শিদাবাদ জেলার ভাবতা আজিজিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন ঢাকায়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বিএ (অনার্স) ও এমএ পাস করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নরসিংদী কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। পরে যোগ দেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।

১৯৭১ সালে রাশীদুল হাসান তার পরিবারসহ শিক্ষক কোয়ার্টারের তৃতীয় তলায় ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) কাছে বসবাস করছিলেন। ১২ সেপ্টেম্বর তাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে। ১২ দিন পর তিনি মুক্তি পান। ঢাকায় সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ ছিল। নিরাপত্তার জন্য রাশীদুল হাসান ও তার পরিবার ক্যাম্পাসে অধ্যাপক আনোয়ার পাশার বাসায় রাতে থাকতেন আর সকালে নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরতেন। ১৪ ডিসেম্বর সকালে খাকি পোশাক ও কালো মুখোশধারী কয়েকজন আনোয়ার পাশার বাসায় প্রবেশ করে আনোয়ার পাশা ও রাশীদুল হাসানকে তুলে নিয়ে যায়। ২২ দিন পর রাশীদুল হাসানের মৃতদেহ মিরপুরে পাওয়া যায়। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।

ড. মো. আবুল খায়ের : বরিশালের চাখার ফজলুল হক কলেজে এবং পরে ঢাকা জগন্নাথ কলেজে শিক্ষকতার পর ১৯৫৫ সালে ড. মো. আবুল খায়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। এ কৃতী শিক্ষক ১৯৫৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে আন্তর্জাতিক ইতিহাসে এমএস এবং ১৯৬২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার পিএইচডি থিসিসের একটি অংশ ১৯৬৮ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি অব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে “ইউনাইটেড স্টেটস ফরেন পলিসি ইন দি ইন্দো-পাক সাবকন্টিনেন্ট, ১৯৩৯-৪৭ শিরোনামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

আলবদর বাহিনীর একটি দল ১৪ ডিসেম্বর তাকে ফুলার রোডের বাসার সামনে থেকে সকাল ৭টার দিকে ধরে নিয়ে যায়। স্বাধীনতার পর মিরপুর বধ্যভূমিতে আরো অনেকের সঙ্গে তার গলিত মরদেহ পাওয়া যায়।

সিরাজুল হক খান : কাস্টমস ও এক্সাইজ বিভাগের ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ড. সিরাজুল হক খান। ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের এডুকেশনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বাংলা, ইংরেজি ও ইতিহাসের বেশ কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক লিখেছেন। যেগুলো স্কুল টেক্সট বুক বোর্ড দ্বারা অনুমোদিত হয়। তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না, তবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন। ১৯৭১ সালে আজকের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টাফ কোয়ার্টার থেকে আলবদর কর্মীরা সিরাজুল হক খানকে অপহরণ করে। পরে তার মৃতদেহ মিরপুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

আ ন ম ফয়জুল মহী : ফেনীর সন্তান আ ন ম ফয়জুল মহী তার বন্ধুদের কাছে প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে যোগ দেন। তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। আলবদর বাহিনী ১৪ ডিসেম্বর তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে। তার মৃতদেহ পাওয়া যায় রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে।

ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা : প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন মোহাম্মদ মোর্তজা। তিনি কিছু সময় কলকাতা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। এরপর ১৯৫৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বদরুদ্দীন উমর সম্পাদিত পত্রিকার প্রকাশনায় সহায়তাও করেছেন। মোর্তজা সেই পত্রিকায় দেশে-দেশে মুক্তিযুদ্ধ শিরোনামে কলাম লেখক হিসেবে নিয়মিত ভূমিকা রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করতেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ডা. মোর্তজাকে তার কন্যা মিতির ওড়না দিয়ে চোখ বেঁধে তুলে নেয়া হয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে ওই ওড়না দেখে তার মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক ও এমএ ডিগ্রি অর্জন করে সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ১৯৩৯ সালে জগন্নাথ কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। এরপর ১৯৪৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও ঢাকা জাদুঘরের কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সংস্কৃত ভাষা ও প্রাচীন বাংলার ইতিহাস বিষয়ে যশস্বী পণ্ডিত হিসেবে তার খ্যাতি ছিল। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর দুপুরবেলায় একটি মাইক্রোবাসে কয়েকজন ছাত্র তাকে নিয়ে যায়। পরে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় মিরপুরে নিয়ে হত্যা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *